For Advertisement
প্রতিবছর ১০ জানুয়ারি শিশুশ্রম বিরোধী দিবস, একটি জাতীয় অঙ্গীকার।

প্রতিবছর ১০ জানুয়ারি শিশুশ্রম বিরোধী দিবস, একটি জাতীয় অঙ্গীকার।
প্রতিবছর ১০ জানুয়ারি শিশুশ্রম বিরোধী দিবস, একটি জাতীয় অঙ্গীকার।
মোঃ হুমায়ুন কবির……
প্রতিবছর ১০ জানুয়ারি বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধী দিবস পালিত হয়। এই দিবসটি শুধুমাত্র একটি তারিখ নয়, বরং এটি শিশুশ্রমের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আহ্বান। এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা, যা তাদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
ইতিহাস:
বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধী দিবসের সূচনা হয়েছিল ২০০২ সালে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) এই দিবসটি প্রথম পালন করে। এর লক্ষ্য ছিল বিশ্বজুড়ে শিশুশ্রমের কারণ ও প্রতিকার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ILO-এর প্রতিবেদন অনুসারে, এখনও ১৬০ মিলিয়ন শিশু শ্রমের শিকার, যা আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
শিক্ষণীয় দিক:
১. শিশুশ্রম কেবল শিশুদের অধিকার হরণ নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে।
২. শিশুশ্রম নির্মূলের মাধ্যমে আমরা জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটাতে পারি।
৩. শিশুদের জন্য সঠিক শিক্ষা ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করলেই তাদের মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ পাব।
মর্ম উপলব্ধি ও ভবিষ্যতে করণীয়:
বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধী দিবস উপলক্ষে আমাদের উচিত জাতীয়ভাবে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া, যা শিশুশ্রম দূর করার পাশাপাশি শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ করবে। এই লক্ষ্যে আমাদের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন।
জাতীয় পর্যায়ে ৫০টি পরিকল্পনা:
১. প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্যে নিশ্চিত করা।
২. দারিদ্র্য বিমোচনে পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তা প্রদান।
৩. প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা।
৪. শিশুশ্রম বিরোধী আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।
৫. শ্রমিক অভিভাবকদের জন্য আর্থিক ভাতা প্রদান।
৬. শিশুদের জন্য টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
৭. পথশিশুদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।
৮. শিশুশ্রম বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা।
৯. কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রম নিরীক্ষণ।
১০. কর্মক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিশু নিরীক্ষা দল গঠন।
১১. ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প চালু করে দরিদ্র পরিবারগুলোর সহায়তা।
১২. মেয়েদের শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
১৩. বিনামূল্যে খাদ্য ও পোশাক বিতরণ।
১৪. গ্রামীণ এলাকায় শিশুদের জন্য সান্ধ্য শিক্ষা কার্যক্রম।
১৫. স্কুল ড্রপআউট শিশুদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফেরানোর উদ্যোগ।
১৬. পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।
১৭. শিশুদের জন্য টেকসই বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ।
১৮. শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সচেতনতা কর্মসূচি।
১৯. স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওদের সঙ্গে সমন্বয়।
২০. প্রতিটি ইউনিয়নে শিশুশ্রম বিষয়ক নজরদারি কমিটি।
২১. শ্রমিক অভিভাবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান।
২২. শিশুশ্রম বিরোধী শিক্ষা কার্যক্রম পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত।
২৩. দরিদ্র পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা।
২৪. স্কুলে খাবার সরবরাহ কর্মসূচি চালু।
২৫. অস্থায়ী কাজের স্থানে শিশুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
২৬. স্থানীয় বাজার ও হাটগুলোতে শিশুশ্রম নিয়ন্ত্রণ।
২৭. শিশুশ্রম নিয়ন্ত্রণে মোবাইল অ্যাপ চালু।
২৮. প্রত্যেক জেলায় একটি শিশুশ্রম মুক্ত অঞ্চল ঘোষণা।
২৯. শিশুদের ওপর মানসিক চাপ হ্রাস করার উদ্যোগ।
৩০. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
৩১. প্রত্যেক এলাকায় শিশুদের জন্য গ্রন্থাগার।
৩২. কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার।
৩৩. বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা।
৩৪. স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন।
৩৫. বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ।
৩৬. শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক উন্নয়নে বিশেষ প্রশিক্ষণ।
৩৭. অবহেলিত শিশুদের আর্থিক অনুদান।
৩৮. কারখানার মালিকদের জন্য শিশু অধিকার প্রশিক্ষণ।
৩৯. শিশুশ্রম মুক্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরস্কার।
৪০. শিশু অধিকার বিষয়ক জাতীয় কমিশন গঠন।
৪১. শিশুশ্রম নিরোধ আইন সংশোধন ও সম্প্রসারণ।
৪২. দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সচেতনতামূলক কর্মশালা।
৪৩. শিশুদের জন্য সৃজনশীল কার্যক্রমের সুযোগ বৃদ্ধি।
৪৪. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রম বিষয়ে আলোচনা।
৪৫. তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা প্রদান।
৪৬. শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রম বিরোধী টাস্কফোর্স।
৪৭. মাদকের ব্যবহার বন্ধে কর্মসূচি।
৪৮. স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবার পর্যবেক্ষণ।
৪৯. গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে বিনিয়োগ।
৫০. প্রতিটি শিশুর জন্য সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা।
শেষ কথা:
বিশ্ব শিশুশ্রম বিরোধী দিবস আমাদের জন্য একটি জাগরণের দিন। আমাদের প্রত্যেককে শপথ নিতে হবে, যাতে বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার অধিকার পায়। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাই আসুন, সবাই মিলে একটি শিশুশ্রম মুক্ত সমাজ গড়ে তুলি আমরা সবাই ।
For Advertisement
Cumillar Voice’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
মন্তব্য